গত ১৮ জুলাই রাজধানীর শেরাটন হোটেলের গ্রান্ড বলরুমে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ট্রেনার্স কনফারেন্সের মিডিয়া পার্টনার ছিল বৈশাখী টিভি। দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এ কনফারেন্সের আয়োজন করে শিক্ষা, উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ খাতের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন ‘ট্রেইনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ট্যাব। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের একটি পর্বের প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তা ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এমপি। অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ, কর্পোরেট লিডার, এইচআর প্রফেশনাল ও পাঁচ শতাধিক বিশেষজ্ঞ ট্রেইনার অংশ নেন।
সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘দক্ষতাই আসল’। এ বিষয়ে দূরদর্শী ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও বরেণ্য শিক্ষাবিদ ড. কেএম হাসান রিপন। তিনি বলেন, ‘আজকের প্রতিযোগিতাপূর্ণ কর্পোরেট দুনিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রীর চেয়ে বাস্তবমুখী দক্ষতা বা স্কিলস অনেক বেশি জরুরী। আমাদের শিল্পখাতগুলোতে যে বিশাল দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে তা দূর করতে না পারলে বৈশ্বিক বাজারে আমরা পিছিয়ে পড়বো।’
প্রধান বক্তা হিসেবে প্রধান অতিথি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বাংলাদেশের সামগ্রিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে এক সুতোয় বাঁধার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন টেকসই করতে হলে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই দক্ষ ও মানবিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। আমি এই সংগঠনের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা জমা দিন। আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের লিডারশিপ, এমপ্যাথি, কমিউনিকেশন এবং টিম বিল্ডিংয়ের মতো সফট স্কিলস বা দক্ষতার উন্নয়নে ট্রেইনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিশেষায়িত এই প্রশিক্ষণ মডিউলটি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেবো।’

এই আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের আকর্ষণীয় বিষয় ছিল মালয়েশিয়ার সফল মডেলের আদলে তৈরি ‘এইচআরডি কর্পোরেশন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন। যৌথভাবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী সহ-সভাপতি ড. মো. ইউসুফ ইফতি ও সাঊথইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম। কিভাবে বেসরকারি খাতের কর্মীদের দিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব, কিভাবে এটি দেশের বিদ্যমান দক্ষতা ঘাটতি দূর করতে কাজ করবে এবং এটি বাস্তবায়িত হলে কিভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের জিডিপিতে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার কন্ট্রিবিউট করা সম্ভব হবে। সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফাইড ট্রেইনার তৈরি এবং দেশব্যাপী তাদের জন্য সুসংগঠিত ডাটাবেজ তৈরির সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপও উপস্থাপন করা হয় এই প্রবন্ধে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এনএসডিএ-এর এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান নাজনীন কাউসার চৌধুরী এই প্রস্তাবকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এনএসডিএ এই প্রস্তাবটি নিয়ে ইতিবাচকভাবে কাজ করবে এবং বাংলাদেশে এটি বাস্তবায়নের ব্যাপারে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
ট্রেইনারদের পেশাগত দক্ষতা ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ৬টি ফিচার্ড সেশনে বক্তব্য রাখেন, জিসান কিংসুক হক, আয়মান সাদিক, অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ট্রেইনার ডেক্ল্যার হেইগ, সিঙ্গাপুরের মিস সুচি, দেশের প্রখ্যাত মেন্টর কাজী এম আহমেদ এবং ইজাজুর রহমানসহ আরো অনেকে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন, ডেফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. সবুর খান, এফবিএইচআরও প্রেসিডেন্ট ড. মোশাররফ হোসেন, ট্রেইনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মোরাদ হোসেন, ডিরেক্টর ইনোভেশন জিয়াউদ্দিন মাহমুদসহ সুনামখ্যত ব্যক্তিত্বগণ।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘ট্রেইনার্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ প্রদান করা হয়। তারা হলেন, বোল্ড-এর প্রতিষ্ঠাতা ও কাজী কনসালটেন্টের সিইও কাজী এম আহমেদ, বিশিষ্ট প্রশিক্ষক ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞ নিলুফার আহমেদ করিম, কাজী রিসোর্টের স্বত্বাধিকারি মাইক কাজী, প্রতিষ্ঠান বিকাশ একাডেমি এবং সংগঠনের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ ও নিঃস্বার্থ কর্মী শাইলা আশরাফ।
ট্রেইনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সাধারণ সম্পাদক মিস লায়লা নাজনীন দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে স্টেকহোল্ডার,এমপ্লয়ার এবং কর্পোরেট সেক্টরের সাথে যৌথভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
ইউ